puc_logo

Premier University
Center Of Excellence For Quality Learning

puc_logo
-->

প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির সমাজতত্ত্ব ও টেকসই উন্নয়ন বিভাগে ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত

প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির সমাজতত্ত্ব ও টেকসই উন্নয়ন বিভাগে ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত

প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির জিইসি মোড়স্থ ক্যাম্পাসে সমাজতত্ত্ব ও টেকসই উন্নয়ন বিভাগের বিএসএস (অনার্স) প্রোগ্রামের ১৫তম ব্যাচ ও এমএসএস প্রোগ্রামের ৭ম ব্যাচের (ফল ২০২৬ সেশন) ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সোমবার সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে বিভাগের চেয়ারম্যান জনাবা উম্মে সালমার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক এস. এম. নছরুল কদির। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও সমাজতাত্ত্বিক, চট্টগ্রাম বিজিএমইএ ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনোলজি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. ওবায়দুল করিম।

অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির প্রক্টর জনাব মোহাম্মদ সোলাইমান চৌধুরী, ইভটিজিং ও যৌন হয়রানি প্রতিরোধ কমিটির সদস্য জনাব গাজী শাহাদাৎ হোসেন, লাইব্রেরিয়ান জনাব মো. কাউসার আলম এবং সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক জনাব ইয়াকুব আলী। বিভাগের প্রভাষক জনাব সায়ীদা জামানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিভাগের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও নবীন শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক এস. এম. নছরুল কদির নবীন শিক্ষার্থীদের স্বাগত জানিয়ে বলেন, “প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হয়ে আপনারা একটি সুন্দর ও সম্ভাবনাময় শিক্ষাজীবনের সুযোগ পেয়েছেন। চট্টগ্রাম শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত এই বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে আমরা কাজ করছি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সবসময় শিক্ষার্থীদের পাশে রয়েছে।”

তিনি বলেন, “আমাদের আমেরিকান কর্নার শিক্ষার্থীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক শিক্ষাসম্পদ। এখানে শিক্ষার্থীরা বিনামূল্যে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক জার্নাল, ওয়েবসাইট ও শিক্ষামূলক রিসোর্স ব্যবহারের সুযোগ পাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের সঙ্গে আমাদের যে সহযোগিতামূলক সম্পর্ক তৈরি হয়েছে, তার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক জ্ঞান ও সুযোগের সঙ্গে আরও বেশি যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে।”

উপাচার্য আরও বলেন, “২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটিতে ২০২৬ সালে এসে প্রথম আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সিএসই ও ইইই বিভাগের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা অংশগ্রহণ করেছেন। এটি আমাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। তবে এটিই শেষ নয়। ইনশাআল্লাহ, ভবিষ্যতে প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটিতে আরও আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজন করা হবে। ইতোমধ্যে বিজনেস ফ্যাকাল্টির অধীনেও আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজনের বিষয়ে কাজ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।”

নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “জীবনে কোনো কষ্ট, বাধা বা সমস্যাকে শুধু সমস্যা হিসেবে দেখা উচিত নয়। আমি প্রত্যেকটি বাধাকে সুযোগ এবং প্রত্যেকটি সমস্যাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করি। প্রতিকূলতা যেন আমাদের এগিয়ে যাওয়ার পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়; বরং প্রতিটি চ্যালেঞ্জকে কাজে লাগিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা শিক্ষার্থীদের জন্য ক্যাম্পাসের অবকাঠামো ও সুযোগ-সুবিধা উন্নয়নে কাজ করছি। লাইব্রেরি আধুনিকায়ন, শিক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় সুবিধা, ক্যাম্পাসের সৌন্দর্যবর্ধন, সবুজায়ন ও নতুন অবকাঠামো নির্মাণসহ বিভিন্ন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। আমাদের লক্ষ্য হলো শিক্ষার্থীরা যেন একটি সুন্দর, নিরাপদ ও আনন্দময় পরিবেশে পড়াশোনা করতে পারে।”

শৃঙ্খলা প্রসঙ্গে মাননীয় উপাচার্য বলেন, “প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটিতে কোনো কিছুই ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের ভিত্তিতে পরিচালিত হয় না। প্রত্যেকেই নিয়ম ও নীতিমালা অনুসরণ করে দায়িত্ব পালন করেন। শিক্ষার্থীদের প্রতি আমরা আন্তরিক, কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলার ক্ষেত্রে কোনো আপস করা হবে না। একজন শিক্ষার্থীর কোনো কর্মকাণ্ডের কারণে অন্য শিক্ষার্থীর পড়াশোনা বা স্বাভাবিক পরিবেশ যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেদিকে সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “আপনারা বিশ্ববিদ্যালয়ের সুযোগ-সুবিধাগুলো যথাযথভাবে ব্যবহার করবেন এবং নিজেদের জ্ঞান, দক্ষতা ও মানবিক মূল্যবোধকে সমৃদ্ধ করবেন। আমরা চাই, প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটি থেকে আপনারা শুধু একটি ডিগ্রি নিয়ে বের হবেন না; বরং ভবিষ্যৎ কর্মজীবন ও সমাজে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার মতো যোগ্যতা অর্জন করবেন।”

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রফেসর ড. মো. ওবায়দুল করিম নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, সমাজতত্ত্বকে এক কথায় সংজ্ঞায়িত করা কঠিন, কারণ এ বস্তুনিষ্ঠ বিজ্ঞানের পরিধি ব্যাপক। সমাজতত্ত্বের জ্ঞান যেমন ব্যবসা-বাণিজ্যে কাজে লাগে, তেমনি তথ্য ও প্রযুক্তিবিজ্ঞানেও সমানভাবে কাজে লাগে। সমাজতত্ত্ব সামাজিক আন্তঃসম্পর্কের বিজ্ঞান। সামাজিক প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞান হিসেবে সমাজতত্ত্ব রাজনীতি, অর্থনীতি, সংস্কৃতি, বিনোদনসহ সমাজজীবনের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করে। স্বাস্থ্যবিষয়ক আলোচনায় মেডিক্যাল সোশিওলজিরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

তিনি বলেন, সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কিত। একটি কম্পিউটার যেমন বিভিন্ন অংশের সমন্বয়ে তৈরি হয়, তেমনি সমাজের বিভিন্ন সামাজিক প্রতিষ্ঠানকে সমাজের বিভিন্ন অংশ হিসেবে বিবেচনা করা যায়। একটি অংশে সমস্যা দেখা দিলে তার প্রভাব অন্য অংশেও পড়ে। সমাজকাঠামোর মূল উপাদান হলো এসব সামাজিক প্রতিষ্ঠান। সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলো সঠিকভাবে কাজ না করলে সমাজে বিভিন্ন ধরনের সামাজিক সমস্যা দেখা দিতে পারে।

তিনি শিক্ষার্থীদের তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিতে বলেন। সঠিক তথ্য গ্রহণ ও প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি শুধু বই পড়ে নয়, নিত্যদিনের অভিজ্ঞতা ও পারিপার্শ্বিক পরিবেশ থেকেও জ্ঞান অর্জনের জন্য তিনি শিক্ষার্থীদের পরামর্শ দেন।

প্রক্টর জনাব মোহাম্মদ সোলাইমান চৌধুরী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আচরণবিধি বা ‘স্টুডেন্টস কোড অব কন্ডাক্ট’ নিয়ে আলোচনা করেন। ইভটিজিং ও যৌন হয়রানি প্রতিরোধ কমিটির সদস্য জনাব গাজী শাহাদাৎ হোসেন যৌন হয়রানিসহ বিভিন্ন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রতিরোধে করণীয় ও সচেতনতার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

লাইব্রেরিয়ান জনাব মো. কাউসার আলম বিশ্ববিদ্যালয় লাইব্রেরির সুযোগ-সুবিধা তুলে ধরে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠাভ্যাস গড়ে তোলার পরামর্শ দেন। সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক জনাব ইয়াকুব আলী পরীক্ষা-সংক্রান্ত নিয়মাবলি সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।

অনুষ্ঠানে বিএসএস (অনার্স) প্রোগ্রামের ১৫তম ব্যাচের নবীন শিক্ষার্থী নন্দিনী পাল তার অনুভূতি ব্যক্ত করেন। বিভাগের প্রভাষক জনাব সিফাতুল ইসলাম একাডেমিক প্রোগ্রামের বিভিন্ন নিয়ম-কানুন বিষয়ে একটি প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন।

সমাপনী বক্তব্যে বিভাগের চেয়ারম্যান জনাবা উম্মে সালমা টেকসই উন্নয়নের সঙ্গে সমাজতত্ত্বের সংযোগের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বিভাগের মানসম্পন্ন শিক্ষার সুযোগ যথাযথভাবে কাজে লাগানোর জন্য শিক্ষার্থীদের পরামর্শ দেন এবং বিশেষ অতিথিসহ অনুষ্ঠানে উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ জানান।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. সাদিকা সুলতানা চৌধুরী, প্রভাষক জনাব আব্দুল্লাহ আল মোজাহিদ, প্রভাষক জনাবা নুসরাত জাহান তানী এবং প্রভাষক জনাব মোহাম্মদ তানজিলুর রহমান।

Related News

প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটিতে “জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্যসৃষ্টি: প্রাসঙ্গিকতা ও তারুণ্যের ভাবনা” শীর্ষক সেমিনার

Read More

নজরুল বর্ষ উপলক্ষে প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটিতে দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

Read More

প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির সমাজতত্ত্ব ও টেকসই উন্নয়ন বিভাগে ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত

Read More

প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের অনুষ্ঠান আয়োজন ও শৃঙ্খলা বিষয়ে নির্দেশনাবলি

Read More

প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটিতে সমাপ্ত হলো আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি সম্মেলন আইকনেক্ট ২০২৬

Read More

প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগের এলএলএম ৪২তম ব্যাচের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত

Read More

প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটিতে আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি সম্মেলন আইকনেক্ট ২০২৬-এর উদ্বোধন

Read More

প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির সমাজতত্ত্ব ও টেকসই উন্নয়ন বিভাগে ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত

Monday, 28 September, 2026

প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির সমাজতত্ত্ব ও টেকসই উন্নয়ন বিভাগে ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত

প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির জিইসি মোড়স্থ ক্যাম্পাসে সমাজতত্ত্ব ও টেকসই উন্নয়ন বিভাগের বিএসএস (অনার্স) প্রোগ্রামের ১৫তম ব্যাচ ও এমএসএস প্রোগ্রামের ৭ম ব্যাচের (ফল ২০২৬ সেশন) ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সোমবার সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে বিভাগের চেয়ারম্যান জনাবা উম্মে সালমার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক এস. এম. নছরুল কদির। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও সমাজতাত্ত্বিক, চট্টগ্রাম বিজিএমইএ ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনোলজি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. ওবায়দুল করিম।

অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির প্রক্টর জনাব মোহাম্মদ সোলাইমান চৌধুরী, ইভটিজিং ও যৌন হয়রানি প্রতিরোধ কমিটির সদস্য জনাব গাজী শাহাদাৎ হোসেন, লাইব্রেরিয়ান জনাব মো. কাউসার আলম এবং সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক জনাব ইয়াকুব আলী। বিভাগের প্রভাষক জনাব সায়ীদা জামানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিভাগের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও নবীন শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক এস. এম. নছরুল কদির নবীন শিক্ষার্থীদের স্বাগত জানিয়ে বলেন, “প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হয়ে আপনারা একটি সুন্দর ও সম্ভাবনাময় শিক্ষাজীবনের সুযোগ পেয়েছেন। চট্টগ্রাম শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত এই বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে আমরা কাজ করছি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সবসময় শিক্ষার্থীদের পাশে রয়েছে।”

তিনি বলেন, “আমাদের আমেরিকান কর্নার শিক্ষার্থীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক শিক্ষাসম্পদ। এখানে শিক্ষার্থীরা বিনামূল্যে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক জার্নাল, ওয়েবসাইট ও শিক্ষামূলক রিসোর্স ব্যবহারের সুযোগ পাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের সঙ্গে আমাদের যে সহযোগিতামূলক সম্পর্ক তৈরি হয়েছে, তার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক জ্ঞান ও সুযোগের সঙ্গে আরও বেশি যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে।”

উপাচার্য আরও বলেন, “২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটিতে ২০২৬ সালে এসে প্রথম আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সিএসই ও ইইই বিভাগের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা অংশগ্রহণ করেছেন। এটি আমাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। তবে এটিই শেষ নয়। ইনশাআল্লাহ, ভবিষ্যতে প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটিতে আরও আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজন করা হবে। ইতোমধ্যে বিজনেস ফ্যাকাল্টির অধীনেও আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজনের বিষয়ে কাজ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।”

নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “জীবনে কোনো কষ্ট, বাধা বা সমস্যাকে শুধু সমস্যা হিসেবে দেখা উচিত নয়। আমি প্রত্যেকটি বাধাকে সুযোগ এবং প্রত্যেকটি সমস্যাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করি। প্রতিকূলতা যেন আমাদের এগিয়ে যাওয়ার পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়; বরং প্রতিটি চ্যালেঞ্জকে কাজে লাগিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা শিক্ষার্থীদের জন্য ক্যাম্পাসের অবকাঠামো ও সুযোগ-সুবিধা উন্নয়নে কাজ করছি। লাইব্রেরি আধুনিকায়ন, শিক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় সুবিধা, ক্যাম্পাসের সৌন্দর্যবর্ধন, সবুজায়ন ও নতুন অবকাঠামো নির্মাণসহ বিভিন্ন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। আমাদের লক্ষ্য হলো শিক্ষার্থীরা যেন একটি সুন্দর, নিরাপদ ও আনন্দময় পরিবেশে পড়াশোনা করতে পারে।”

শৃঙ্খলা প্রসঙ্গে মাননীয় উপাচার্য বলেন, “প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটিতে কোনো কিছুই ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের ভিত্তিতে পরিচালিত হয় না। প্রত্যেকেই নিয়ম ও নীতিমালা অনুসরণ করে দায়িত্ব পালন করেন। শিক্ষার্থীদের প্রতি আমরা আন্তরিক, কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলার ক্ষেত্রে কোনো আপস করা হবে না। একজন শিক্ষার্থীর কোনো কর্মকাণ্ডের কারণে অন্য শিক্ষার্থীর পড়াশোনা বা স্বাভাবিক পরিবেশ যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেদিকে সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “আপনারা বিশ্ববিদ্যালয়ের সুযোগ-সুবিধাগুলো যথাযথভাবে ব্যবহার করবেন এবং নিজেদের জ্ঞান, দক্ষতা ও মানবিক মূল্যবোধকে সমৃদ্ধ করবেন। আমরা চাই, প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটি থেকে আপনারা শুধু একটি ডিগ্রি নিয়ে বের হবেন না; বরং ভবিষ্যৎ কর্মজীবন ও সমাজে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার মতো যোগ্যতা অর্জন করবেন।”

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রফেসর ড. মো. ওবায়দুল করিম নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, সমাজতত্ত্বকে এক কথায় সংজ্ঞায়িত করা কঠিন, কারণ এ বস্তুনিষ্ঠ বিজ্ঞানের পরিধি ব্যাপক। সমাজতত্ত্বের জ্ঞান যেমন ব্যবসা-বাণিজ্যে কাজে লাগে, তেমনি তথ্য ও প্রযুক্তিবিজ্ঞানেও সমানভাবে কাজে লাগে। সমাজতত্ত্ব সামাজিক আন্তঃসম্পর্কের বিজ্ঞান। সামাজিক প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞান হিসেবে সমাজতত্ত্ব রাজনীতি, অর্থনীতি, সংস্কৃতি, বিনোদনসহ সমাজজীবনের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করে। স্বাস্থ্যবিষয়ক আলোচনায় মেডিক্যাল সোশিওলজিরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

তিনি বলেন, সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কিত। একটি কম্পিউটার যেমন বিভিন্ন অংশের সমন্বয়ে তৈরি হয়, তেমনি সমাজের বিভিন্ন সামাজিক প্রতিষ্ঠানকে সমাজের বিভিন্ন অংশ হিসেবে বিবেচনা করা যায়। একটি অংশে সমস্যা দেখা দিলে তার প্রভাব অন্য অংশেও পড়ে। সমাজকাঠামোর মূল উপাদান হলো এসব সামাজিক প্রতিষ্ঠান। সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলো সঠিকভাবে কাজ না করলে সমাজে বিভিন্ন ধরনের সামাজিক সমস্যা দেখা দিতে পারে।

তিনি শিক্ষার্থীদের তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিতে বলেন। সঠিক তথ্য গ্রহণ ও প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি শুধু বই পড়ে নয়, নিত্যদিনের অভিজ্ঞতা ও পারিপার্শ্বিক পরিবেশ থেকেও জ্ঞান অর্জনের জন্য তিনি শিক্ষার্থীদের পরামর্শ দেন।

প্রক্টর জনাব মোহাম্মদ সোলাইমান চৌধুরী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আচরণবিধি বা ‘স্টুডেন্টস কোড অব কন্ডাক্ট’ নিয়ে আলোচনা করেন। ইভটিজিং ও যৌন হয়রানি প্রতিরোধ কমিটির সদস্য জনাব গাজী শাহাদাৎ হোসেন যৌন হয়রানিসহ বিভিন্ন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রতিরোধে করণীয় ও সচেতনতার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

লাইব্রেরিয়ান জনাব মো. কাউসার আলম বিশ্ববিদ্যালয় লাইব্রেরির সুযোগ-সুবিধা তুলে ধরে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠাভ্যাস গড়ে তোলার পরামর্শ দেন। সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক জনাব ইয়াকুব আলী পরীক্ষা-সংক্রান্ত নিয়মাবলি সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।

অনুষ্ঠানে বিএসএস (অনার্স) প্রোগ্রামের ১৫তম ব্যাচের নবীন শিক্ষার্থী নন্দিনী পাল তার অনুভূতি ব্যক্ত করেন। বিভাগের প্রভাষক জনাব সিফাতুল ইসলাম একাডেমিক প্রোগ্রামের বিভিন্ন নিয়ম-কানুন বিষয়ে একটি প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন।

সমাপনী বক্তব্যে বিভাগের চেয়ারম্যান জনাবা উম্মে সালমা টেকসই উন্নয়নের সঙ্গে সমাজতত্ত্বের সংযোগের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বিভাগের মানসম্পন্ন শিক্ষার সুযোগ যথাযথভাবে কাজে লাগানোর জন্য শিক্ষার্থীদের পরামর্শ দেন এবং বিশেষ অতিথিসহ অনুষ্ঠানে উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ জানান।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. সাদিকা সুলতানা চৌধুরী, প্রভাষক জনাব আব্দুল্লাহ আল মোজাহিদ, প্রভাষক জনাবা নুসরাত জাহান তানী এবং প্রভাষক জনাব মোহাম্মদ তানজিলুর রহমান।

Latest News

Designed and Developed By Premier University Software Section (IT)
Copyright © 2024 Premier University IT. All rights reserved.